Category:

ইনসাইড পলিটিক্স

পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য নিহত হওয়ার প্রায় ৬ বছর পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফেরেন বঙ্গবন্ধুকন্যা আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আগে একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।

দেশে ফেরার পর থেকে টানা ৪১ বছর তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলছেন। এ সময় নেতৃত্ব দিয়েছেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। ভূমিকা রেখেছেন সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে। পুরো সময়টাই তিনি দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে চলেছেন বিরামহীনভাবে।

ঝড়-ঝঞ্ঝাপূর্ণ দিনে (১৭ মে, ১৯৮১) দেশে ফেরার পর থেকে রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ রাস্তায় চলতে হয় স্বজন হারানো শেখ হাসিনাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দুর্যোগের মধ্যে দেশে ফিরে স্মৃতি বিজড়িত পৈত্রিক বাড়িতে ঢুকতে না পেরে আশ্রয় নিতে হয় আত্মীয়-স্বজনের কাছে। দায়িত্ব নিতে হয় পঁচাত্তর পরবর্তী ষড়যন্ত্রে খণ্ডিত আওয়ামী লীগের। পিতা-মাতা, ভাইসহ আপনজন হত্যার শোক কাটানোর আগেই পিতার হাতে গড়া দলকে সংগঠিত করায় মনোনিবেশ করতে হয় শেখ তাকে। দলের নেতাকর্মীরা ‘ঐক্যের প্রতীক’ হিসেবে শেখ হাসিনার কাঁধে আওয়ামী লীগের ভার তুলে দিয়েছিলেন, সেই ঐক্য প্রতিষ্ঠায় মাঠে নেমে পড়েন তিনি।

সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের ঘোষণা— ‘মানি ইজ নো প্রবলেম’ এবং ‘আই উইল মেক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট ফর পলিটিশিয়ানস’, জেল-জুলুম-হুলিয়া, গুম-খুন ইত্যাদি নৈমিত্তিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দলকে সংগঠিত করতে শুরু করেন শেখ হাসিনা। এ কাজে কখনও নৌকায়, কখনও ভ্যান-রিকশায়, আবার কখনও কাদামাটির পথ ভেঙে ছুটে গেছেন দেশের একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে। দেশে ফেরার পর তার নেতৃত্বে সামরিক শাসনবিরোধী দুর্বার গণআন্দোলন সংগঠিত হয়। সেদিন ঐক্যের প্রতীক হিসেবে শেখ হাসিনাকে দলের যে কঠিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, গত ৪১ বছর সেই ঐক্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। এ সময় দু’চারবার দলের ওপর চরম আঘাত এলেও টলাতে পারেনি বঙ্গবন্ধুকন্যাকে।

দেশে ফেরার পর তৎকালীন সামরিক শাসকের নির্দেশে ১৯৮৩-এর ফেব্রুয়ারিতে প্রথমে কারান্তরীণ হতে হয় তাকে। এরপর ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি এবং নভেম্বর মাসে তাকে দু’বার গৃহবন্দি করা হয়। ১৯৮৫ সালের ২ মার্চ তাকে আটক করে প্রায় ৩ মাস গৃহবন্দি করে রাখা হয়। ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে তিনি ১৫ দিন গৃহবন্দি ছিলেন। ১৯৮৭ সালে ১১ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করে তারই স্মৃতি বিজড়িত ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে একমাস অন্তরীণ রাখা হয়। ১৯৮৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনা গ্রেফতার হয়ে গৃহবন্দি হন। ১৯৯০ সালে ২৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে বঙ্গবন্ধু ভবনে অন্তরীণ করা হয়। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে গ্রেফতার করে সংসদ ভবন চত্বরে সাবজেলে পাঠায়। প্রায় এক বছর পর ২০০৮ সালের ১১ জুন তিনি মুক্তিলাভ করেন।

শেখ হাসিনা  (ফাইল ফটো)শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)

এদিকে দেশে ফেরার পর ঢুকতে পারেননি পৈত্রিক বাড়িতে। ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরার পরদিনই ১৮ মে শেখ হাসিনা যান ধানমন্ডির বাড়িতে। তবে তাকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। পরে ৩২ নম্বরের মূল ফটকের সামনে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ আদায় করেন এবং মিলাদ মাহফিল করেন। ওইদিন তিনি আবেগরুদ্ধ কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘যে বাড়িতে আমি বড় হয়েছি, যে বাড়িতে আমার পিতাকে হত্যা করা হয়েছে, সেখানে আমাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না, এ কেমন বিচার?’ ‘একদিন নিশ্চয়ই এসব অন্যায়ের বিচার হবে বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন। শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িটি খুলে দেওয়ার জন্য এবং উত্তরাধিকার হিসেবে বাড়ির মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন করলেও জিয়াউর রহমান সরকার তাতে সাড়া দেনটি বলে শেখ হাসিনা তার স্মৃতিচারণমূলক ‘স্মৃতি বড়ো মধুর, স্মৃতি বড়ো বেদনার’ কলামে উল্লেখ করেছেন। তবে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রপতি সাত্তার ১৯৮১ সালের ২১ জুন ওই বাড়িটি বুঝিয়ে দেন বলে শেখ হাসিনা তার লেখায় উল্লেখ করেন।  তিনি লিখেছেন- ‘এই বাড়িটি যখন ১২ই জুন ১৯৮১ সালে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাত্তার সাহেবের নির্দেশে খুলে দেওয়া হলো, তখন বাড়িটির গাছপালা বেড়ে জঙ্গল হয়ে আছে। মাকড়সার জাল, ঝুল, ধুলাবালি, পোকামাকড়ে ভরা। ঘরগুলো অন্ধকারাচ্ছন্ন। গুলির আঘাতে লাইব্রেরি ঘরের দরজা ভাঙা, বইয়ের আলমারিতে গুলি, কাচ ভাঙা, বইগুলো বুলেটবিদ্ধ, কয়েকটি বইয়ের ভেতরে এখনও বুলেট রয়েছে।’

বাড়িটি ফিরে পেলেও শেখ হাসিনা তাতে বসবাস করেননি। তবে, বড়িটির নিজ তলায় দলের কিছু ঘরোয়া বৈঠক করতেন। ১৯৯১ সালে নির্বাচনের সব কাজ এ বাড়িতে বসেই করেন বলে শেখ হাসিনা তার স্মৃতিচারণে জানিয়েছেন।

দেশে ফেরার পর শেখ হাসিনা লালমাটিয়ায় ছোট ফুফু খাদিজা হোসেন লিলির ভাড়া বাসায় ওঠেন। এ সময় সরকারের রোষানলে পড়ার আশঙ্কায় বাড়িটির মালিক ব্যাংক কর্মকর্তা নূর আহমেদ তাকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি লালমাটিয়ায় মেজো ফুফু আছিয়া খাতুনের (শেখ ফজলুল করিম সেলিমের মা) ভাড়া বাসায় ছিলেন এ সময়। পরে ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ড. ওয়াজেদ মিয়া বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের যোগ দেওয়ার পর ওই বছরের শেষ দিকে তাকে মহাখালীতে দুই কামরার একটা ফ্ল্যাট বরাদ্দ করেছিল কমিশন। শেখ হাসিনা সেই ফ্ল্যাটেই স্বামীর সঙ্গে থেকেছেন।

আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। তাকে অন্তত ২২ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি সবচেয়ে নৃশংস   হামলার শিকার হন ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। ওই সময় নেতাকর্মীদের তৈরি মানববর্মে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এদিন প্রাণ হারান ২৪ জন নেতাকর্মী। এরপরও কোনও বাধাবিপত্তি তাকে টলাতে পারেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ও হুলিয়া মাথায় নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে এসেছিলেন। নিশ্চিত গ্রেফতার হবেন জেনেও তিনি  জনগণের কথা ভেবে করে দেশে ফেরেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলকে সংগঠিত করার পাশাপাশি দলকে চারবার ক্ষমতায় এনেছেন। বর্তমানে তার দল টানা তৃতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনা করছে। এছাড়া শেখ হাসিনা তিনবার সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি টানা ৯ বার আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। নেতৃত্বে তিনি বাংলাদেশ তো বটেই দক্ষিণ এশিয়ার সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। তিনি বিশ্ব নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আজ ঐক্যবদ্ধ। অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে দল এখন বেশি শক্তিশালী। দলের জন্য তিনি এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছেন।

শত বাধা-বিপত্তি এবং হত্যার হুমকিসহ নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা ভাত-ভোট এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য অবিচল থেকে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ পেয়েছে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা। শেখ হাসিনার অপরিসীম আত্মত্যাগের ফলেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে।  তার শাসনামলে আর্থ-সামাজিক খাতে দেশ অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করে।  ভারতের সঙ্গে  ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সামুদ্রিক সমুদ্রসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি, ভারতের সঙ্গে সীমানা বিরোধের নিষ্পত্তি, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনসহ নানামুখী উন্নয়ন চলমান রয়েছে। তার নেতৃত্বে দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। করোনা মোকাবিলায় সাফল্যের পাশাপাশি দেশের মানুষের জন্য বিনামূল্যে টিকার ব্যবস্থা করেছেন। এই ক্রান্তিকালেও তিনি কয়েক লাখ গৃহহীন মানুষকে ঘর তৈরি করে দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শেখ হাসিনা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীতকরণ, জাতীয় আয় ও রিজার্ভ বৃদ্ধি, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা, জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের বিচারের পাশাপাশি রায় কার্যকর করা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় শেখ হাসিনা সবসময়ই আপসহীন নীতি অবলম্বন করছেন।

শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)

১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে তিনি বলেছিলেন, ‘…সব হারিয়ে আজ আপনারাই আমার আপনজন। স্বামী সংসার ছেলে রেখে আপনাদের কাছে এসেছি। বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেওয়ার জন্য আমি এসেছি। আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই। আবার বাংলার মানুষ শোষণের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হচ্ছে। আমি চাই বাংলার মানুষের মুক্তি। শোষণের মুক্তি। বাংলার দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য বঙ্গবন্ধু সংগ্রাম করেছিলেন। আজ  যদি বাংলার মানুষের মুক্তি না আসে, তবে আমার কাছে মৃত্যুই শ্রেয়। আমি আপনাদের পাশে থেকে সংগ্রাম করে মরতে চাই। স্বাধীন-সার্বভৌম জাতি হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধে বাঙালি জাতি রক্ত দিয়েছে। কিন্তু আজ স্বাধীনতা-বিরোধীদের হাতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হতে চলেছে। ওদের রুখে দাঁড়াতে হবে।’ শেখ হাসিনা সেদিন যে অঙ্গীকার করেছিলেন, তা বাস্তবায়নে তিনি আজও নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কাজ করে যাচ্ছেন বিশ্রামহীন, বিরামহীনভাবে।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের স্মৃতিচারণ করে ২০১৭ দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আমি চিন্তাও করিনি কোথায় থাকবো, কোথায় উঠবো। দুটো স্যুটকেস হাতে নিয়ে ফিরে আসলাম। তখন শুধুই একটাই চিন্তা। দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে হবে। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।’

তার নিজের মুখেও বিশ্রামহীনভাবে দায়িত্ব পালনের কথা যেমন উঠে এসেছে, তেমনই তার কাজকর্মেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে। ২০১৮ সালের ২১ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘একটা মানুষের তো ২৪ ঘণ্টা সময়। এই ২৪ ঘণ্টা থেকে আমি মাত্র ৫ ঘণ্টা নেই, আমার ঘুমানোর সময়। এছাড়া প্রতিটি মুহূর্ত আমি কাজ করি দেশের মানুষের জন্য, দেশের উন্নয়নের জন্য। এর বাইরে আমার আর কোনও কাজ নেই। আমি কোনও উৎসবে যাই না। আমি কোথাও যাই না, কিচ্ছু করি না। সারাক্ষণ আমার একটাই চিন্তা— আমার দেশের উন্নয়ন, দেশের মানুষের উন্নয়ন। সারাক্ষণ চেষ্টা করি, কোথায় কোন মানুষটা কী অবস্থায় আছে, তার খোঁজ-খবর রাখতে।’

ওই সংবর্ধনার আগে দলের এক বর্ধিত সভায় তিনি বলেছিলেন, ‘অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করতে হয়েছে। তবে সবসময় নিজের আদর্শে অবিচল থেকেছি। বাবার স্বপ্ন পূরণ করতেই হবে’ এ প্রত্যয় তার সবসময় ছিল।

২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শেখ হাসিনার গলব্লাডারে অপারেশন করার পর চিকিৎসকরা ৬ মাসের বিশ্রামের পরামর্শ দিলেও তিনি সেই বিশ্রাম নেননি। অপারেশনের কয়েক দিন পর থেকেই তিনি রাষ্ট্রীয় ও দলীয় কাজ শুরু করেন। এমনকি ওই সময় তাকে ঘরোয়া পোশাক পরে হলেও অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা গেছে।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা । তিনি  ২০০৭ সালের  ৭ মে  তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ঘোষিত জরুরি অবস্থা চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা শেষে শত প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশে ফিরে আসেন ।

এর আগে আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে তদানীন্তন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু তিনি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দেশে ফেরার ঘোষণা দেন। এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে বিশ্বব্যাপী। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে তাঁর ঐকান্তিক দৃঢ়তা, সাহস ও গণতন্ত্রকামী দেশবাসীর চাপে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হয়।

পরবর্তী সময়ে ৭ মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় ফিরে এলে লাখো জনতা তাঁকে সাদর অভ্যর্থনা জানায়। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে মিছিল শোভাযাত্রা সহকারে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। দেশে ফিরে জনগণের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শুরু করেন নবতর সংগ্রাম।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ভীতসন্তস্ত্র হয়ে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই শেখ হাসিনাকে সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার করে। ২০০৮ সালের ১১ জুন প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁকে কারান্তরীণ রাখা হয়।

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশ গমন এবং চিকিৎসা শেষে ৪ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তারপর তাঁর সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে ব্যাপক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়। আন্দোলনের মুখে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয় জোরপূর্বক রাষ্ট্র ক্ষমতায় চেপে বসা তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট।

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন ৭ মে উপলক্ষে প্রতিবছর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। কিন্তু এ বছর বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে সৃষ্ট সংকটে শেখ হাসিনার নির্দেশে সব ধরনের জনসমাগমপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিহার করে আসছে আওয়ামী লীগ।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

এবার একজন ‘সার্বক্ষণিক’ সাধারণ সম্পাদক বেছে নিতে পারে আওয়ামী লীগ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন চিন্তা দলটির হাইকমান্ডের। টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় যেতে আওয়ামী লীগ নিবেদিতপ্রাণ একজন নেতার প্রয়োজন অনুভব করছে এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে।

যিনি শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, বর্তমানে কোনো সরকারি পদে নেই এবং দলের জন্য সার্বক্ষণিক কাজ করতে পারবেন। আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায় সূত্র যুগান্তরকে এই তথ্য জানিয়েছে।

আগামী বছর ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, প্রতিপক্ষ বিএনপির অংশগ্রহণে এই নির্বাচন হতে পারে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তাই আওয়ামী লীগের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হবে নিজেদের ঐক্যবদ্ধ রাখা।

ঘর সামলাতে দলের বঞ্চিত নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে হবে। মন্ত্রী-এমপিদের স্বজনপ্রীতি ও নানা কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অনেকেই বর্তমানে নিষ্ক্রিয়। তারা অভিমান করে দূরে সরে আছেন। আবার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার কারণে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগ হয়ে পড়েছে বিভক্ত।

অনুপ্রবেশকারীদের দাপটে অতিষ্ঠ দলের পুরোনো ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ ইস্যুগুলোর প্রতি মনোযোগী হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সেজন্যই আওয়ামী লীগের দরকার একজন সার্বক্ষণিক সাধারণ সম্পাদক।

যিনি নিরলসভাবে কাজ করে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারবেন। এ বছর ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দলমতনির্বিশেষে সবার কৌতূহল-কে হচ্ছেন পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক।

দলের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা তেমন ভালো নয়। তিনি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শুক্রবার সিঙ্গাপুর গেছেন। সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে শিগগিরই তিনি ঢাকায় ফিরবেন।

এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি রুটিন চেকআপের জন্য ভারতের দিল্লি যান ওবায়দুল কাদের। দিল্লির মেজেন্টা হাসপাতালে তার শারীরিক চেকআপ করা হয়।

এ অবস্থায় সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদের আর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে। টানা তৃতীয় মেয়াদে আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকার নজিরও দলটিতে খুব কম।

এছাড়া ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জার একের পর এক অভিযোগে অনেকটা বিব্রত ওবায়দুল কাদের। সাধারণ সম্পাদকের এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতা ক্ষমতাসীন দলকে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আওয়ামী লীগের নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব কাউন্সিলরদের। কিন্তু তারা কখনই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে ভূমিকা রাখেন না। সব জাতীয় সম্মেলনে কাউন্সিলররা এ দায়িত্ব তুলে দেন সভাপতি শেখ হাসিনার কাঁধে।

পঁচাত্তরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন শেখ হাসিনা। এরপর সারা দেশের নেতাকর্মীদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি। তাই শুরু থেকে সব কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্ব দিয়ে আসছেন নেতাকর্মীরা।

সূত্র জানিয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্পষ্ট ছাপ থাকবে আওয়ামী লীগের এবারের জাতীয় সম্মেলনে। দলের ঘোষণাপত্র প্রণয়ন, সম্মেলন আয়োজন এবং নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চিন্তা থেকে।

দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেতে তেমন একজনকেই বেছে নেওয়া হতে পারে, যিনি হবেন আওয়ামী লীগের সার্বক্ষণিক সাধারণ সম্পাদক। অর্থাৎ সরকারি কোনো পদে থাকবেন না। দল ও সরকারকে আলাদা করতে এমন চেষ্টা অনেক আগে থেকেই করে আসছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আবদুর রহমান ও ড. আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, ড. হাছান মাহমুদ এবং আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের নাম আলোচনায় রয়েছে।

নেতাকর্মীরা বিভিন্ন আড্ডা ও আলোচনায় তাদের পছন্দের নেতার নাম উল্লেখ করে তার গুরুত্ব তুলে ধরছেন। তবে তারা সবাই একমত-আগামী জাতীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে কে আসবেন, তা পুরোপুরিভাবে নির্ভর করছে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিবেচনার ওপর।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগে একমাত্র অপরিহার্য বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এজন্য কে সাধারণ সম্পাদক হবেন বা হবেন না, এর চেয়ে প্রধান বিবেচ্য বিষয় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে কে কত বেশি তার কাজে সহযোগিতা করতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘তাই আমি মনে করি, তেমনই একজন যোগ্য, দক্ষ ও দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি তার (শেখ হাসিনার) পাশে থেকে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে সার্বক্ষণিক সব কাজ করবেন।’

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এ বছর অক্টোবর-নভেম্বর নাগাদ সারা দেশে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির হাইকমান্ডের। এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা করা হচ্ছে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় নাগাদ সব সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের জাতীয় সম্মেলন শেষ করার।

২০১৯ সালে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যেভাবে একই মঞ্চে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, এবারও সেভাবেই তাদের সম্মেলন হবে। এরপর অনুষ্ঠিত হবে মূল দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন। দলটির সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের ২০ ও ২১ ডিসেম্বর।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
যেকোন  সংগঠন বা দলের জন্য অন্ত:কোন্দল এক আতঙ্কের নাম। কারণ অন্ত:কোন্দল কখনোই সুখের হয় না, এটি ধ্বংসের বার্তা বহন করে। এবার এমনই এক বার্তা পেল বিএনপি। সম্প্রতি সিলেটের এক বিএনপি নেতাকে প্রকাশ্যে জুতাপেটার ঘটনা ঘটেছে। আর এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা বিএনপি’রই নেতকর্মী। বিএনপিতে এমন ঘটনায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আগ্রহের অন্ত নেই। তাদের মতে, এ যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। এমনিতেই বিএনপি এখন ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় রয়েছে। দলটির নেতৃত্ব সংকট ভোগাচ্ছে দলটিকে। দলের মহাসিচব ছাড়া দলটিতে কথা বলার কেউ নেই। এর মধ্যে এমন ঘটনা সর্বত্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই নিয়ে দলটির সচেতন নেতাকর্মীদের হতাশাও প্রকাশ করতে দেখা গেছে। কারণ দলটি প্রায় ১৫ বছর ক্ষমতার বাইরে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়া তাদের জন্য এখন একটি বাধ্যতামূলক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সামনের বার নির্বাচনে না গেলে দলটি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। এই অবস্থায় দলীয় অন্ত:কোন্দলে জ্বলছে বিএনপি।
সম্প্রতি সিলেট জেলার বিএনপিকে নিয়ে পানি কম ঘোলা হয়নি। জেলা বিএনপির কাউন্সিলের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্নের পর ২৪ ঘণ্টা আগে হঠাৎ করে স্থগিত করা হয় কাউন্সিল। কাউন্সিলে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরীর জেলা কমিটির সভাপতি হওয়ার জোর গুঞ্জন শোনা যায়। কিন্তু অদৃশ্য কেন্দ্রের চাপে মেয়র আরিফুল প্রার্থীতা প্রত্যহার করে নেন। এ নিয়ে জেলার অধিকাংশ নেতাকর্মীর মধ্যে হতাশ দেখা দেয় এবং একই সাথে আবার কবে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে তা নিয়েও অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়। এরই মধ্যে গত ২৪ মার্চ (বৃহস্পতিবার) বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ২৯ মার্চ কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। বেশ উৎসবমুখর পরিবেশে এবং কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ডেলিগেটদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সিলেট জেলা বিএনপির পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। পুরো কাউন্সিল সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ায় এ নিয়ে বেশ আলোচনাও হয়েছিল। ফলাও করে প্রচার করতে দেখা গেছে বিষটিকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দাবি করেছিল, জেলা কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলায় যেমন নতুন নেতৃত্ব এসেছে তেমনি দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা চাঙ্গা ভাব এসেছে। আর সন্মেলনে যেহেতু কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, এর মানে সিলেট জেলা বিএনপি এখন অনেক বেশি শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ।
কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সেই ধারণাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালো গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে। যেখানে দেখা গেছে, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়াকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী। ঘটনাটি নিয়ে যত সমালোচনা হয়েছে তার চেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে বিএনপির অন্ত:কোন্দলের বিষয়টি নিয়ে। বিষয়টি অস্বস্তিকর হওয়ায় পাশ কেটে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল বিএনপি। কিন্তু এখন আরও নতুন করে চাপের মুখে ফেলে দিল গত রোববার জেলা বিএনপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি। সেখানে জুতাপেটা করার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং হামলাকারীদের সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় বিএনপি এখন নিজেরাই নিজেকে সন্ত্রাসীর তকমা দিলো। বিএনপি সম্পর্কে যে অভিযোগ এতো দিন আওয়ামী লীগ করে আসছে সেটি এখন বিএনপি নিজেই স্বাকীর করেছে। এতে করে বিএনপি আরও চাপের মুখে পড়লো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যে মুহূর্তে দলটির নেতাকর্মীদের সব রকম দ্বন্দ্ব-কোন্দল ঝেড়ে ফেলে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন, সেই মুহূর্তে দলটিতে বিভক্তি আরও বাড়ছে। দলে আধিপত্য বিস্তার এবং নিজস্ব বলয় সৃষ্টির অভিপ্রায়ে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বিদ্যমান কোন্দল-রেষারেষি দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এখন দেখার বিষয় বিএনপির এই অন্ত:কোন্দল কোথায় শেষ হয়। আর এই অন্ত:কোন্দল শেষ করে বিএনপি আদৌ এগিয়ে যেতে পারে কি না।
0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail