Monthly Archives

April 2022

এবার একজন ‘সার্বক্ষণিক’ সাধারণ সম্পাদক বেছে নিতে পারে আওয়ামী লীগ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন চিন্তা দলটির হাইকমান্ডের। টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় যেতে আওয়ামী লীগ নিবেদিতপ্রাণ একজন নেতার প্রয়োজন অনুভব করছে এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে।

যিনি শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, বর্তমানে কোনো সরকারি পদে নেই এবং দলের জন্য সার্বক্ষণিক কাজ করতে পারবেন। আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায় সূত্র যুগান্তরকে এই তথ্য জানিয়েছে।

আগামী বছর ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, প্রতিপক্ষ বিএনপির অংশগ্রহণে এই নির্বাচন হতে পারে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তাই আওয়ামী লীগের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হবে নিজেদের ঐক্যবদ্ধ রাখা।

ঘর সামলাতে দলের বঞ্চিত নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে হবে। মন্ত্রী-এমপিদের স্বজনপ্রীতি ও নানা কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অনেকেই বর্তমানে নিষ্ক্রিয়। তারা অভিমান করে দূরে সরে আছেন। আবার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার কারণে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগ হয়ে পড়েছে বিভক্ত।

অনুপ্রবেশকারীদের দাপটে অতিষ্ঠ দলের পুরোনো ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ ইস্যুগুলোর প্রতি মনোযোগী হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সেজন্যই আওয়ামী লীগের দরকার একজন সার্বক্ষণিক সাধারণ সম্পাদক।

যিনি নিরলসভাবে কাজ করে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারবেন। এ বছর ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দলমতনির্বিশেষে সবার কৌতূহল-কে হচ্ছেন পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক।

দলের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা তেমন ভালো নয়। তিনি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শুক্রবার সিঙ্গাপুর গেছেন। সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে শিগগিরই তিনি ঢাকায় ফিরবেন।

এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি রুটিন চেকআপের জন্য ভারতের দিল্লি যান ওবায়দুল কাদের। দিল্লির মেজেন্টা হাসপাতালে তার শারীরিক চেকআপ করা হয়।

এ অবস্থায় সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদের আর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে। টানা তৃতীয় মেয়াদে আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকার নজিরও দলটিতে খুব কম।

এছাড়া ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জার একের পর এক অভিযোগে অনেকটা বিব্রত ওবায়দুল কাদের। সাধারণ সম্পাদকের এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতা ক্ষমতাসীন দলকে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আওয়ামী লীগের নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব কাউন্সিলরদের। কিন্তু তারা কখনই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে ভূমিকা রাখেন না। সব জাতীয় সম্মেলনে কাউন্সিলররা এ দায়িত্ব তুলে দেন সভাপতি শেখ হাসিনার কাঁধে।

পঁচাত্তরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন শেখ হাসিনা। এরপর সারা দেশের নেতাকর্মীদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি। তাই শুরু থেকে সব কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্ব দিয়ে আসছেন নেতাকর্মীরা।

সূত্র জানিয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্পষ্ট ছাপ থাকবে আওয়ামী লীগের এবারের জাতীয় সম্মেলনে। দলের ঘোষণাপত্র প্রণয়ন, সম্মেলন আয়োজন এবং নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চিন্তা থেকে।

দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেতে তেমন একজনকেই বেছে নেওয়া হতে পারে, যিনি হবেন আওয়ামী লীগের সার্বক্ষণিক সাধারণ সম্পাদক। অর্থাৎ সরকারি কোনো পদে থাকবেন না। দল ও সরকারকে আলাদা করতে এমন চেষ্টা অনেক আগে থেকেই করে আসছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আবদুর রহমান ও ড. আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, ড. হাছান মাহমুদ এবং আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের নাম আলোচনায় রয়েছে।

নেতাকর্মীরা বিভিন্ন আড্ডা ও আলোচনায় তাদের পছন্দের নেতার নাম উল্লেখ করে তার গুরুত্ব তুলে ধরছেন। তবে তারা সবাই একমত-আগামী জাতীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে কে আসবেন, তা পুরোপুরিভাবে নির্ভর করছে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিবেচনার ওপর।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগে একমাত্র অপরিহার্য বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এজন্য কে সাধারণ সম্পাদক হবেন বা হবেন না, এর চেয়ে প্রধান বিবেচ্য বিষয় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে কে কত বেশি তার কাজে সহযোগিতা করতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘তাই আমি মনে করি, তেমনই একজন যোগ্য, দক্ষ ও দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি তার (শেখ হাসিনার) পাশে থেকে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে সার্বক্ষণিক সব কাজ করবেন।’

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এ বছর অক্টোবর-নভেম্বর নাগাদ সারা দেশে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির হাইকমান্ডের। এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা করা হচ্ছে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় নাগাদ সব সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের জাতীয় সম্মেলন শেষ করার।

২০১৯ সালে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যেভাবে একই মঞ্চে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, এবারও সেভাবেই তাদের সম্মেলন হবে। এরপর অনুষ্ঠিত হবে মূল দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন। দলটির সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের ২০ ও ২১ ডিসেম্বর।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
যেকোন  সংগঠন বা দলের জন্য অন্ত:কোন্দল এক আতঙ্কের নাম। কারণ অন্ত:কোন্দল কখনোই সুখের হয় না, এটি ধ্বংসের বার্তা বহন করে। এবার এমনই এক বার্তা পেল বিএনপি। সম্প্রতি সিলেটের এক বিএনপি নেতাকে প্রকাশ্যে জুতাপেটার ঘটনা ঘটেছে। আর এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা বিএনপি’রই নেতকর্মী। বিএনপিতে এমন ঘটনায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আগ্রহের অন্ত নেই। তাদের মতে, এ যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। এমনিতেই বিএনপি এখন ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় রয়েছে। দলটির নেতৃত্ব সংকট ভোগাচ্ছে দলটিকে। দলের মহাসিচব ছাড়া দলটিতে কথা বলার কেউ নেই। এর মধ্যে এমন ঘটনা সর্বত্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই নিয়ে দলটির সচেতন নেতাকর্মীদের হতাশাও প্রকাশ করতে দেখা গেছে। কারণ দলটি প্রায় ১৫ বছর ক্ষমতার বাইরে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়া তাদের জন্য এখন একটি বাধ্যতামূলক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সামনের বার নির্বাচনে না গেলে দলটি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। এই অবস্থায় দলীয় অন্ত:কোন্দলে জ্বলছে বিএনপি।
সম্প্রতি সিলেট জেলার বিএনপিকে নিয়ে পানি কম ঘোলা হয়নি। জেলা বিএনপির কাউন্সিলের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্নের পর ২৪ ঘণ্টা আগে হঠাৎ করে স্থগিত করা হয় কাউন্সিল। কাউন্সিলে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরীর জেলা কমিটির সভাপতি হওয়ার জোর গুঞ্জন শোনা যায়। কিন্তু অদৃশ্য কেন্দ্রের চাপে মেয়র আরিফুল প্রার্থীতা প্রত্যহার করে নেন। এ নিয়ে জেলার অধিকাংশ নেতাকর্মীর মধ্যে হতাশ দেখা দেয় এবং একই সাথে আবার কবে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে তা নিয়েও অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়। এরই মধ্যে গত ২৪ মার্চ (বৃহস্পতিবার) বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ২৯ মার্চ কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। বেশ উৎসবমুখর পরিবেশে এবং কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ডেলিগেটদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সিলেট জেলা বিএনপির পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। পুরো কাউন্সিল সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ায় এ নিয়ে বেশ আলোচনাও হয়েছিল। ফলাও করে প্রচার করতে দেখা গেছে বিষটিকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দাবি করেছিল, জেলা কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলায় যেমন নতুন নেতৃত্ব এসেছে তেমনি দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা চাঙ্গা ভাব এসেছে। আর সন্মেলনে যেহেতু কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, এর মানে সিলেট জেলা বিএনপি এখন অনেক বেশি শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ।
কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সেই ধারণাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালো গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে। যেখানে দেখা গেছে, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়াকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী। ঘটনাটি নিয়ে যত সমালোচনা হয়েছে তার চেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে বিএনপির অন্ত:কোন্দলের বিষয়টি নিয়ে। বিষয়টি অস্বস্তিকর হওয়ায় পাশ কেটে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল বিএনপি। কিন্তু এখন আরও নতুন করে চাপের মুখে ফেলে দিল গত রোববার জেলা বিএনপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি। সেখানে জুতাপেটা করার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং হামলাকারীদের সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় বিএনপি এখন নিজেরাই নিজেকে সন্ত্রাসীর তকমা দিলো। বিএনপি সম্পর্কে যে অভিযোগ এতো দিন আওয়ামী লীগ করে আসছে সেটি এখন বিএনপি নিজেই স্বাকীর করেছে। এতে করে বিএনপি আরও চাপের মুখে পড়লো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যে মুহূর্তে দলটির নেতাকর্মীদের সব রকম দ্বন্দ্ব-কোন্দল ঝেড়ে ফেলে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন, সেই মুহূর্তে দলটিতে বিভক্তি আরও বাড়ছে। দলে আধিপত্য বিস্তার এবং নিজস্ব বলয় সৃষ্টির অভিপ্রায়ে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বিদ্যমান কোন্দল-রেষারেষি দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এখন দেখার বিষয় বিএনপির এই অন্ত:কোন্দল কোথায় শেষ হয়। আর এই অন্ত:কোন্দল শেষ করে বিএনপি আদৌ এগিয়ে যেতে পারে কি না।
0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail